• ঢাকা, বাংলাদেশ শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
গোবিন্দগঞ্জের বাজুনিয়পাড়ায় সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যই রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় বললেন শহিদুল ইসলাম রাজা ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ দফা দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি সরকারি মাতামুহুরী কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রাজধানী বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন গণসংবর্ধনায় সিক্ত হলেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল গোপালগঞ্জ বিপুল পরিমাণ মাদক সহ দু’জন আটক. বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র সংকট: ৫০শয্যা হইতে ১০০শয্যা উন্নীতকরণের জোর দাবি বকশীগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন সফর ও উচ্চশিক্ষায় নতুন দিগন্তের সম্ভাবনা

সংবাদদাতার নাম / ২১১ ভিজিটর
সময় : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬

জসীমউদ্দিন ইতি
সীমান্তবর্তী জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়াতে যাত্রা শুরু করা নবীন ‘ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়’ শুরুতেই যে দূরদর্শিতার স্বাক্ষর রাখছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।

সম্প্রতি চীনের ঐতিহ্যবাহী ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা সফরে অংশ নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এম. ডি. ইসরাফিল। চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত “Chinese Bridge” ডেলিগেশনের এই সফর কেবল একটি প্রাতিষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং উত্তরবঙ্গের উচ্চশিক্ষার মানদণ্ডকে আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করার এক সময়োপযোগী রোডম্যাপ।

একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুরুতেই আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন করা কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সফরকালে উপাচার্য মহোদয় ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড রিজিওনাল স্টাডিজ’ এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড স্টাডিজ ইনস্টিটিউট’-এর মতো বিশ্বমানের গবেষণা কেন্দ্রে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে যে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেছেন, তা বৈশ্বিক দরবারে এই নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এই সফরের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিকটি হলো—ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিশেষ কর্মসূচি (Chinese language and culture programs) চালুর ব্যাপারে প্রাথমিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনা ভাষার গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান। আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা যদি নিজ ক্যাম্পাসেই আন্তর্জাতিক মানের এই ভাষা শিক্ষার সুযোগ পায়, তবে তারা বৈশ্বিক শ্রমবাজার ও উচ্চশিক্ষার বৃত্তির ক্ষেত্রে অন্যান্যদের চেয়ে কয়েক কদম এগিয়ে থাকবে। বিশেষ করে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের কারণে বাংলাদেশে যে বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে এই দক্ষতা আমাদের তরুণদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।

আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্থকতা শুধু চার দেয়ালের ভেতর পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তার শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করার মাঝেই নিহিত। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার শুরুতেই সেই বৈশ্বিক জানালাটি খুলে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক।

তবে এই ফলপ্রসূ আলোচনার পর এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো—উদ্যোগটির দ্রুত ও সফল বাস্তবায়ন। আমরা আশা করি, উপাচার্য মহোদয়ের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তিতে (MoU) রূপ নেবে। সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও (ইউজিসি)

এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি উদীয়মান বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিকীকরণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই যাত্রা শুভ হোক, উত্তরবঙ্গের ঘরে ঘরে পৌঁছাক বিশ্বমানের শিক্ষার আলো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ দেখুন