• ঢাকা, বাংলাদেশ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
গোবিন্দগঞ্জে রাতভর ১৭ পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে চেয়ারম্যান বিপ্লব ফুলছড়িতে দুর্যোগ মোকাবিলায় নতুন আশ্রয়কেন্দ্র, সহায়তা পেলেন ৪০০ কৃষক রায়গঞ্জে ইঞ্জিন অয়েলে এমআরপি মুছে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ ঘুড়কা ইউপি নির্বাচন: ৪নং ওয়ার্ডে মেম্বার পদে লড়ছেন তরুণ সমাজসেবক মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ গাইবান্ধায় জেলা পুলিশের কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত ভয়হীন আনন্দময় শিক্ষায় আলোকিত হতে চায় রেবেকা হাবিবের শিক্ষার্থীরা এমপিও নীতিমালার ১১.১৭(ক) ধারা লঙ্ঘন: হরিপুরে শিক্ষকতা ও কাজি পেশা একসাথে চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ বলাই সিমলা দাখিল মাদ্রাসায় “আরিফ” কে সভাপতি করে এডহক কমিটির অনুমোদন। সলঙ্গা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে “হিরন” কে সভাপতি করে এডহক কমিটির অনুমোদন। গাইবান্ধায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

জাল জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সরকারি চাকরি: দীর্ঘ ১৩ বছর বেতন তুলে রাষ্ট্রীয় কোষাগরের ক্ষতি সাধন

সংবাদদাতার নাম / ৮৮ ভিজিটর
সময় : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সরকারি চাকরি ও বেতন-ভাতা ভোগ করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে মোছা: রেহেনা খাতুন নামের এক নারীর বিরুদ্ধে।

তিনি নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। ভুয়া বয়স দেখিয়ে সরকারি চাকরি পাওয়ার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রধান কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, মোছা: রেহেনা খাতুন (পিতা: মো: আবু বকর সিদ্দিক, মাতা: মোছা: রেজিয়া পারভীন, গ্রাম: গোপীনাথপুর, ডাকঘর: নাজিরপুর হাট, উপজেলা: গুরুদাসপুর, জেলা: নাটোর) গত ২৬/০৯/১৯৯২ তারিখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কাবিননামা অনুযায়ী তখন তার বয়স ছিল ১৮ বছর। সেই হিসাবে তার প্রকৃত জন্ম সাল দাঁড়ায় আনুমানিক ১৯৭৪ সাল।
কিন্তু পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্রে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তার জন্ম তারিখ দেখানো হয় ০৭/০৯/১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ। এই জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই তিনি ১৫/০১/২০১২ তারিখে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আয়া পদে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।
বিচিত্র এক গাণিতিক অসঙ্গতি:
অভিযোগকারীরা জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে রেহেনা খাতুনের মেয়ের বয়স ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের এক অবিশ্বাস্য অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। রেহেনা খাতুনের মেয়ে মোছা: আয়শা সিদ্দিকার জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ২৭/১২/১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ।
যদি রেহেনা খাতুনের জালিয়াতি করা জন্ম তারিখ (১৯৮৬ সাল) সঠিক ধরা হয়, তবে ১৯৯৪ সালে তার মেয়ের জন্মের সময় রেহেনা খাতুনের বয়স দাঁড়ায় মাত্র ০৮ বছর! জীববিজ্ঞান ও বাস্তবতার নিরিখে ৮ বছর বয়সে মা হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। প্রকৃত পক্ষে মা ও মেয়ের বয়সের ব্যবধান মাত্র ০৮ বছর হওয়াটাই প্রমাণ করে যে, রেহেনা খাতুন সম্পূর্ণ জালিয়াতির মাধ্যমে তার বয়স কমিয়ে দেখিয়েছেন।
সরকারের লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি:
অভিযোগে বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি টিকিয়ে রেখে মোছা: রেহেনা খাতুন বিগত ১৩ বছরে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৮,০০০ টাকা হারে বেতন ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা মিলিয়ে সরকারের সর্বমোট ২৮,০৮,০০০/- (আটাশ লক্ষ আট হাজার) টাকা অবৈধভাবে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় কোষাগার ও বাংলাদেশ সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি সাধন করেছেন।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি:
এই জালিয়াতি ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এলাকার সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষে মো: সিদ্দিকুর রহমান, মো: নাদিম মোস্তফা, মো: আলমগীর হোসেন, মো: পারভেজ মোশারফ সহ মোট ১০ জন ব্যক্তি স্বাক্ষর করে দুদকের চেয়ারম্যানের নিকট এই আবেদন জানান।
উক্ত আবেদনের অনুলিপি সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এবং নাটোরের সিভিল সার্জন কার্যালয়েও প্রেরণ করা হয়েছে।

এলাকাবাসী এই জালিয়াতির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ দেখুন