• ঢাকা, বাংলাদেশ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৬ অপরাহ্ন
  • [কনভাটার]
শিরোনাম:
গোবিন্দগঞ্জের বাজুনিয়পাড়ায় সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্যই রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় বললেন শহিদুল ইসলাম রাজা ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ দফা দাবিতে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি সরকারি মাতামুহুরী কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত রাজধানী বনশ্রী সোসাইটির কমন ফ্যাসিলিটিজের জায়গা পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন গণসংবর্ধনায় সিক্ত হলেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল গোপালগঞ্জ বিপুল পরিমাণ মাদক সহ দু’জন আটক. বান্দরবানের লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র সংকট: ৫০শয্যা হইতে ১০০শয্যা উন্নীতকরণের জোর দাবি বকশীগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিস্তির টাকা আদায় ও মাঠপর্যায়ের সহিংসতা: প্রয়োজন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি

সংবাদদাতার নাম / ২৫০ ভিজিটর
সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

জসীমউদ্দিন ইতি ঠাকুরগাঁও।
ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) বকেয়া কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে সংস্থাটির কর্মী এবং এক গ্রাহক পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি আমাদের গভীরভাবে ব্যথিত ও চিন্তিত করেছে।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় উভয় পক্ষের নারী-পুরুষসহ প্রায় ২৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঋণের কিস্তি আদায় বা পরিশোধের মতো একটি সাধারণ আর্থিক প্রক্রিয়া কীভাবে এমন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিল, তার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে এবং প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতায় বড় ভূমিকা পালন করে আসছে—এ কথা অনস্বীকার্য। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিস্তি আদায়ের পদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের আচরণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক উঠছে। ঠাকুরগাঁওয়ের ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এনেছে। এনজিও কর্মীদের দাবি, তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছে; অন্যদিকে গ্রাহক পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থতার কথা বলা সত্ত্বেও নারী গ্রাহককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তীতে বহিরাগতদের নিয়ে বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। ঋণগ্রহীতা যদি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ বা খেলাপি হন, তবে তা আদায়ের জন্য আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো গ্রাহককে জোরজুলুম করা, বাড়িতে চড়াও হওয়া বা হুমকি দেওয়ার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঠিক একইভাবে, দায়িত্ব পালনরত মাঠকর্মীদের ওপর চড়াও হওয়া বা তাদের অবরুদ্ধ করার ঘটনাও নিন্দনীয়।

আমাদের মনে রাখা দরকার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ অনেক সময় চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে কিস্তি সময়মতো দিতে পারেন না। বিশেষ করে অসুস্থতা বা পারিবারিক দুর্যোগের সময় তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো এনজিওগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। কিস্তি আদায়ের ক্ষেত্রে মাঠকর্মীদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক যে লক্ষ্যমাত্রা বা ‘টার্গেট’-এর চাপ থাকে, অনেক সময় সেই চাপের কারণেই তারা গ্রাহকদের সাথে রূঢ় আচরণ করতে বাধ্য হন—এমন অভিযোগও নতুন নয়। এনজিওগুলোর উচ্চমহলকে এই ‘টার্গেট সংস্কৃতির’ কুফল নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

আমরা আশা করি, ঠাকুরগাঁওয়ের এই অনভিপ্রেত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে পুলিশ প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ (এমআরএ) এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান—মাঠপর্যায়ে কিস্তি আদায়ের প্রক্রিয়াকে আরও মানবিক, সুশৃঙ্খল ও মর্যাদাপূর্ণ করতে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করুন। ঋণের টাকা অবশ্যই আদায়যোগ্য, তবে মানুষের জানমাল ও সম্ভ্রমের বিনিময়ে নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ দেখুন